পিরোজপুরে ৭ শিক্ষক, ৮ পরীক্ষার্থী,পাস করেনি কেউ

প্রকাশিত: August 11, 2026

  • শেয়ার করুন

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক থাকলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আটজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই বিদ্যালয়টির এমন ফলাফল হয়েছে।

অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অনেক দিন শিক্ষকরা ঠিকমতো উপস্থিত থাকতেন না। গণিত ও ইংরেজির শিক্ষকও ছিলেন না। ক্লাস কম হওয়ায় পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হতো।

অভিভাবক বাসুদেব সাহা বলেন, সন্তানদের ভালো ফলাফলের জন্য অভিভাবকরা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করেছেন। চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিতেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি হয়ে যেত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, একসময় পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যথেষ্ট সুনাম ছিল। প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করত। কিন্তু এবার আটজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষক কম থাকলেও এখন শিক্ষক সংখ্যা বেড়েছে। এরপরও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় এর দায়ভার কার—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার অভিযোগ, বিদ্যালয় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চালু থাকার কথা থাকলেও অনেক সময় তার আগেই ছুটি হয়ে যায়। এছাড়া বিদ্যালয়ে কার্যকর ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জে.কে পঞ্চগ্রাম নেছারিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসার ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকেরা আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে ফলাফল ভালো হতে পারত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ৮ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও সবাই অকৃতকার্য হয়েছে—যা শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শতভাগ ফেল করা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলের কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • শেয়ার করুন