পটুয়াখালীতে সালিশে গিয়ে মারধরের শিকার নারী ইউপি সদস্য

প্রকাশিত: August 13, 2026

  • শেয়ার করুন

পটুয়াখালী: পটুয়াখালী সদর উপজেলায় সালিশে গিয়ে তানিয়া বেগম (৩৮) নামে এক ইউপি সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘেরাখালী মোল্লা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত তানিয়া বেগম মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। পরে তাকে আহত অবস্থায় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সালিশে গিয়ে হামলার অভিযোগ

তানিয়া বেগমের দাবি, স্থানীয় একটি জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের সালিশে সালিশদার হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং তার মাথা ও হাতে আঘাত লাগে।

তানিয়া বেগম বলেন, সালিশে যাওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশকে ফোনে জানিয়েছিলেন। সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে খবির, লিটন গাজী, রিপন, রত্তন, আলমগীর, লিমন ও লতিফ সিকদারসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেন।

‘হত্যা মামলার জের ধরে হামলা’

তানিয়া বেগমের ভাই ও প্রত্যক্ষদর্শী জলিল বলেন, তার বোন সালিশদার হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তাকে দেখেই হামলাকারীরা সেখানে আসার কারণ জানতে চান। এরপর তার ওপর মারধর শুরু হয়।

জলিলের দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজন একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওই মামলায় তানিয়া বেগম সাক্ষী। ওই মামলার জের ধরেই তার বোনের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান মোল্লা জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ওই দিন সালিশের কথা ছিল। এর আগের দিন কয়েকজন সেখানে ঘর নির্মাণ করতে গেলে বিষয়টি ইউপি সদস্যকে জানানো হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের

তবে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিটন গাজী। তিনি বলেন, তানিয়া বেগমকে কেউ মারধর করেনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় রাস্তায় শুয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন লিটন।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: পুলিশ

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে এ বিষয়ে কেউ থানায় যোগাযোগ করেননি।

তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শেয়ার করুন