সিরাজগঞ্জে বিএনপির এমপির গাড়ি বহরে জামায়াত- এনসিপির হামলার অভিযোগ

প্রকাশিত: August 15, 2026

  • শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জ :

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এমপির গাড়ির পেছনের গ্লাস ও একটি ক্যামেরা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। হামলার জন্য জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন এমপি আয়নুল হক ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

টিটিসি নির্মাণ নিয়ে বিরোধ

স্থানীয়রা জানান, সরকারি উদ্যোগে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্মাণের বিষয়ে একটি সরকারি চিঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই চিঠিতে চান্দাইকোনা এলাকায় টিটিসি স্থাপনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের পর টিটিসি ভবন ধানগড়া এলাকায় নাকি চান্দাইকোনায় নির্মাণ করা হবে—এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন অংশে আলোচনা ও মতবিরোধ দেখা দেয়।

দুই পক্ষের লোকজন নিজেদের দাবির পক্ষে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনও করেন।

এরই মধ্যে শনিবার ধানগড়া এলাকায় টিটিসি ভবন নির্মাণের দাবিদার একটি পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এমপি আয়নুল হক।

বৈঠকের একপর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল শুরু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এমপি আয়নুল হক গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় পেছন থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে তার গাড়ির পেছনের গ্লাস ও একটি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এমপির অভিযোগ

ঘটনার পর আয়নুল হক একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, টিটিসি ভবন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনার সময় জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, সেখান থেকে গাড়িতে করে চলে আসার সময় হট্টগোলকারীরা তার গাড়িতে হামলা চালায়।

এ বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানেই টিটিসি ভবন নির্মাণ করা হবে বলে দাবি করেন এমপি আয়নুল হক।

বিএনপির বিক্ষোভ

এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ও ধানগড়া বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ সময় হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

পুলিশের বক্তব্য

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম বলেন, এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, হামলার অভিযোগ ওঠা জামায়াত, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তবে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে তারা নিজেরাই গাড়ি ভাঙচুর করে এর দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

  • শেয়ার করুন