প্রকাশিত: August 16, 2026
রংপুর :
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করেই এক শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অডিট প্রতিবেদনে এ অনিয়ম উঠে এসেছে।
ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০-এর স্কেলে) অথবা সমমানের প্রথম শ্রেণি থাকার শর্ত ছিল।
তবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক মো. এমদাদুল হকের স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ছিল ৩.২৬ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৩৯। অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ন্যূনতম যোগ্যতা তিনি পূরণ করেননি। এরপরও তাকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে ইউজিসি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট টিমের অডিটের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়োগটি অনতিবিলম্বে বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি ওই শিক্ষকের বেতন-ভাতা বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে এ বছর এ খাতে কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও জানিয়েছে কমিশন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. এমদাদুল হক ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ড. এমদাদুল হক বলেন, তাদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানের মতো সিজিপিএ পদ্ধতি চালু ছিল না; বরং ফার্স্ট ক্লাস বা সেকেন্ড ক্লাসের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হতো। তার সব কাগজপত্র ও ফলাফলের কপি সংরক্ষিত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিতে তার যোগ্যতা ও নিয়োগের বৈধতা প্রমাণিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, ইউজিসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।