গোপালগঞ্জের পৃথক স্থান থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: August 16, 2026

  • শেয়ার করুন
গোপালগঞ্জ :
গোপালগঞ্জের পৃথক তিন উপজেলা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন নদীতে ডুবে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অপর দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে মুকসুদপুর উপজেলার সর্দ্দি এলাকায় কুমার নদী থেকে মিজানুর রহমান (৬২) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার মিজানুর রহমান কুমার নদীতে পাট ধোয়া শেষে সাঁতরে নদীর অপর পাড়ে যাওয়ার সময় পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে রোববার সকালে ভট্টাচার্য্যকান্দি এলাকায় কুমার নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সিন্দিয়াঘাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

মিজানুর রহমান ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বিবিরকান্দি গ্রামের মৃত রশিদ খলিফার ছেলে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, রোববার দুপুরে সদর উপজেলার কাজুলিয়া গ্রাম থেকে শান্ত মোল্লা (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, নেশা করার জন্য টাকা না দেওয়ায় হতাশা থেকে রাতের কোনো একসময় ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। সকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। শান্ত মোল্লা কাজুলিয়া গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে।

অন্যদিকে, শনিবার বিকেলে কাশিয়ানী উপজেলার শাফলীডাঙ্গা গ্রাম থেকে বাবুল মিয়া (৫৩) নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিজের বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাবুল মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম জানান, কয়েক বছর আগে তার স্বামী ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

তিনি জানান, তিনি রামদিয়া বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করেন। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে তিনি ঘরের আড়ার সঙ্গে স্বামীর মরদেহ ঝুলতে দেখেন।

পরিবারের দাবি, বাবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনজনিত হতাশা থেকেও তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা পরিবারের।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, পৃথক ঘটনায় দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • শেয়ার করুন