টাঙ্গাইলে কবর খুঁড়ে সাপে কাটা মরদেহকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা, অতঃপর…

প্রকাশিত: August 17, 2026

  • শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া হাসনা বেগম (৫৮) নামে এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওই ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাকে জীবিত করা সম্ভব।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাপে কাটার পর স্বজনেরা হাসনা বেগমকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ইসিজি করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চতলবাইদ গ্রামে মেয়ের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর মধ্যে সাপে কাটার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কৈলানপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামে এক ওঝা সেখানে যান। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। শনিবার কবরের একপাশের মাটি সামান্য খুঁড়ে সুরঙ্গের মতো করে সেখানে গন্ধ শুঁকে তিনি ‘তেলের গন্ধ’ পাওয়ার দাবি করেন।

ওঝা গাজী মিয়া নিহতের মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, মঙ্গলবার আবার কবরের পাশে এসে গন্ধ পরীক্ষা করবেন। দুর্গন্ধ না পাওয়া গেলে মরদেহ তুলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাকে জীবিত করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

খালেদা বেগম জানান, মাকে জীবিত পাওয়ার আশায় তিনি অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই ওঝা ফোন করে জানান, ধ্যানে তিনি দেখেছেন তার মা আর বেঁচে নেই।

এদিকে, কবরের পাশে ওঝার ঝাড়ফুঁক ও গন্ধ শোঁকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করার পর কবর দেওয়া ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি এ ধরনের দাবিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমও রয়েছে।

  • শেয়ার করুন