প্রকাশিত: August 25, 2026
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নাটোরের লালপুর উপজেলার দূরদুরিয়া ইউনিয়নের যোতগৌরি পশ্চিমপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা (১৯) ও রাজিব আলীকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের হোতা সোহেল রানা ইমো হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭ হাজার টাকায় ইমো হ্যাকিংয়ের কৌশল শিখেছিলেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল ও তার সহযোগীরা ইমোর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নারী কণ্ঠে কথা বলতেন। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করে স্ক্রিন শেয়ারসহ নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতারণা করতেন। একপর্যায়ে নারী সেজে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
লালপুর থানা পুলিশ আরও জানায়, উপজেলায় ইমো হ্যাকিং ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রবাসীদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে।
সোমবার দুপুরে সোহেল রানা ও রাজিব আলীর বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ইমো হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও আসামির শার্ট একই কীভাবে, জানালেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন চক্র সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এসব প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেক প্রবাসী সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।