ইবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন, তদন্তে কমিটি

প্রকাশিত: September 6, 2026

  • শেয়ার করুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর থাপ্পড় দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলের করিডোরে থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে। সেখানে দুপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়।

শহিদ জিয়াউর রহমান হলের দুইজন ছাত্রের মধ্যে সংঘঠিত ঘটনা তদন্তের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ ও ফলিত রাসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য করা করা হয়েছে। উক্ত কমিটিকে সুষ্ঠু তদন্ত করে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আলিনূর রহমান তাকে থাপ্পড় দেন। তবে কী কারণে তাকে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।

ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তার কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে আসতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে।

আলোচনায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে আনতে গেলে শিবির নেতা-কর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ দিয়ে বের হয়ে যায় ছাত্রদলের নেতারা। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রদল কর্মীদের সাথে শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তকে উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে শিবির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এই ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘এখানে দুই পক্ষের মাঝে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টা দুই পক্ষের সাথে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিয়েছি। তারপরেও আমরা আমাদের অবস্থান এখানে রেখেছি যাতে পরবর্তীতে এটা আরও উত্তপ্ত না হয়।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে তার একটি প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

  • শেয়ার করুন