প্রকাশিত: September 8, 2026
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ডেকে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের চেষ্টা ও অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও প্রধান ফটকে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যান। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কুরুচিপূর্ণ কথা ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক তাকে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং শরীরের পালস মাপার কথা বলে বোরকা খুলতে বলেন। বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।
জ্যোতি সরকার নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ফারুক স্যার বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ও অশালীন মন্তব্য করতেন। শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং একা দেখা করতে বলার অভিযোগ করেছেন।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে ‘সোনা ময়না পাখি’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করতেন। অন্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ফলাফল সংক্রান্ত বিষয় দেখানোর কথা বলে তাকে একা ডেকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে।
আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষক তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করতেন এবং একা ডেকে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিকরর কথা বলতেন। এসব বিষয় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, এ ধরনের আচরণের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে উঠেছে, এমন শিক্ষককে আমরা বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না। তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে চূড়ান্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
তবে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার বলেন, টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি নামকরা প্রতিষ্ঠান। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।