প্রকাশিত: September 14, 2026
বই-খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার বয়স ১১ বছরের তানিয়ার। কিন্তু অভাবের সংসারে জন্ম নেওয়ায় ছোট বয়সেই তাকে নিতে হয়েছিল জীবিকার কঠিন দায়িত্ব। প্রায় দেড় বছর আগে গৃহকর্মীর কাজ করতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ির রশিদ মিস্ত্রী পাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেনের মেয়ে তানিয়াকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিশুটি।
পরিবার ও তানিয়ার অভিযোগ, ঢাকায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় দিনের পর দিন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি একটি বাথরুমে বন্দি করে রাখা হতো তাকে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেওয়া হয়েছে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা। নির্যাতনে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পা ও পিঠে পচন ধরতে শুরু করে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তানিয়াকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত নিয়ে বাড়ি ফেরার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানিয়া। শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতর শিশুটির ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। তার উন্নত চিকিৎসা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেন বলেন, অভাবের কারণে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কথায় মেয়েকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মেয়েটি এমন নির্মম নির্যাতনের শিকার হবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।
তিনি বলেন, আমি দিনমজুর। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে মেয়েকে পড়াশোনা করানোর সামর্থ্য ছিল না। তানিয়া সাত বছর বয়সেই মাকে হারিয়েছে। একদিকে মা নেই, অন্যদিকে সংসারে অভাব সব মিলিয়ে ছোটবেলা থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয়েছে সে।
পরিবারের দাবি, ঢাকায় যে বাসায় তানিয়া কাজ করত, সেখানে রাসেল নামে এক ল্যাপটপ ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী ছোটন, যিনি পেশায় শিক্ষক, থাকতেন। তাদের পরিচয়, ঠিকানা এবং তানিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
একই সঙ্গে তানিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবার। শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটি সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে অমানবিক নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষে কেউ মামলা করলে নির্যাতনকারীকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।