গাইবান্ধায় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে মারধর

প্রকাশিত: September 22, 2026

  • শেয়ার করুন

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর হামলা, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক গৃহবধূকে মারধর এবং টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকারসহ গৃহপালিত পশু লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এর আগে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে ভুক্তভোগী গৃহবধূর শ্বশুর আশরাফুল আলম পন্তু (৮৫) ৬ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী লাভলু ও নয়ন নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাভলু ও নয়নের নির্দেশে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বৃদ্ধ আশরাফুল আলমের গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে রাখে এবং তার পুত্রবধূ সোমা খাতুনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে দুর্বৃত্তরা চারটি ঘর ভাঙচুর করে। পাশাপাশি প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও দুটি ছাগল লুট করে নিয়ে যায়।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে প্রতিপক্ষরা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজেদের বাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না।

আহত গৃহবধূ সোমা খাতুন বলেন, ‘ওরা আমার সুখের সংসার শেষ করে দিল। আমি নিষেধ করায় আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর করেছে। কষ্ট করে লালন-পালন করা দুটি ছাগলও লুট করে নিয়ে গেছে। আমার স্বামী অসুস্থ, আর শ্বশুরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

একই কথা জানিয়ে বৃদ্ধ আশরাফুল আলম বলেন, ‘টাকা দিয়ে জমি কিনেও আজ গৃহহীন হতে হলো। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু বাড়িতে ঢুকতে গেলে এখনো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ আলী হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘ঘরগুলো এমনভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে যে সেখানে বর্তমানে বসবাস করার কোনো পরিবেশ নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লাভলু ও নয়ন মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চালিয়ে একটি ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে, শনাক্তকরণ শেষে সেটি ভুক্তভোগী গৃহবধূর হলে তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • শেয়ার করুন