বিদ্যালয়ে ‘জিন আতঙ্কে’ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, ২০ ছাত্রী হাসপাতালে

প্রকাশিত: September 30, 2026

  • শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ‘জিন আতঙ্কে’ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে অসুস্থ অন্তত ২০ ছাত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও শিক্ষর্থীরা জানান, প্রথমে দশম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা পাঠদান কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তাকে সহযোগিতায় সহপাঠীরা এগিয়ে গেলে একে একে অনেকেই বিদ্যালয়ের ভেতরে অসুস্থ হয়ে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে।

এ ঘটনা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। পরে অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোর্শেদা বেগম শিক্ষার্থীদের সেবা দিতে গিয়ে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকেও উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মোর্শেদা বেগম কালবেলাকে বলেন, ‘যেই অসুস্থ ছাত্রীর কাছে গেছে সেই অসুস্থ হয়েছে। আমিও মাথা ঘুরে পড়ে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ছাত্রীরা পথে, আবার কেউ কেউ বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছে।’

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিংকি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, এতটা ভয় আগে কখনও পাইনি। ক্লাসের মধ্যে একজনের পর একজন মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। আর হাত-পা খিঁচুনি দিয়ে শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থাও হয়েছে অনেকের। কিন্তু ভৌতিক না অন্য কিছুর জন্য এটা হয়েছে তা জানি না।

ওই প্রতিষ্ঠানের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক নেছার উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘হঠাৎ এতগুলো বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা দিশা হারিয়ে ফেলেছি। কাকে রেখে কাকে উদ্ধার করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’

তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণির সানজিদা প্রথম অসুস্থ হয়। এরপর পুরো স্কুলে ছড়িয়ে যায়।’

তবে এদের অধিকাংশ শ্বাসকষ্ট এবং হাত-পায়ের খিঁচুনিতে ভুগছিল, যা ছিল এক ভীতিকর পরিস্থিতি। এদের মধ্যে সবাই মেয়ে শিক্ষার্থী হওয়া তারা জোরে কান্না করছিল। পরে অভিভাবক ও স্থানীয়রা ছুটে এলে তাদের সহযোগিতা ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে গুরুতরদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশারফ হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষর্থীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মানিক মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘এটি কোনো জিন-ভূতের ঘটনা নয়, মূলত হিস্টোরিয়া বা মানসিক রোগজনিত সমস্যা। এতে ভয়ের কিছু নেই। আক্রান্তদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস তালুকদার কালবেলাকে বলেন, ‘খবর পেয়েই আমারা হাসপাতালে উপস্থিত হই। কোনো বড় ধরনের শঙ্কার বিষয় নেই। আমাদের পুলিশ সদস্যরা এখনও হাসপাতালে রয়েছেন।’

  • শেয়ার করুন