প্রকাশিত: October 3, 2026
কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও যুবদলের নেতাসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকান পাটে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্ব ধইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর আলী (৭০), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান (৩৫), ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম (৩৭), কোরবানপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৩৮), দানু মিয়ার ছেলে আল আমিন (৪৮) ও শাহ জাহানের ছেলে রুবেল (২৮)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কোরবানপুর গ্রামের ৩ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানাথেকে বাড়ি ফেরার পথে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ৩নং ওয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে।
এর জের ধরে শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোরবানপুরের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে হামলা চালায়। এ সময় আমির হোসেনের মুখে দা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ইউপি সদস্য ওমর আলী ও আল আমিনকেও মারধর করা হয়। এ সময় হামলা করতে আসা রুবেল নামের এক যুবকও আহত হয়। পরে ৩নং ওয়ার্ডের লোকজন পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা সরে যায়। খবর পেয়ে বাঙ্গরাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে হামলার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনি অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় মাদকবিরোধী সংগঠনের লোকজন তাকে ও রেজাউল করিমকে মারধর করেন। এ সময় ৩নং ওয়ার্ডের দুই যুবক উপস্থিত থাকায় শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। হামলায় বাড়িঘর ও দোকানপাট থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও করেন রনি।
অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে রেজাউল করিমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাওয়ার পথে ৩নং ওয়ার্ডের কয়েকজন উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। রাতে থানার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই বাঙ্গরা বাজার থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকলাল দেবনাথ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আগামী মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। এরমধ্যেই আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।