প্রকাশিত: March 21, 2026
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, শত্রুরা ‘পরাজিত’ হচ্ছে। খবর আলজাজিরার
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, নওরোজ এমন এক বছর সূচনা করেছে, যা হবে জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অধীনে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর।
খামেনি বলেন, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও জনগণের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তাতে শত্রুরা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ভেবেছিল কয়েক দিনের হামলাতেই জনগণ সরকার উৎখাত করবে—এটি ছিল তাদের মারাত্মক ভুল হিসাব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে তার পিতা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বার্তায় খামেনেই আরও দাবি করেন, শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিদের হত্যার মাধ্যমে ইরানে ভয় ও হতাশা ছড়ানোর যে পরিকল্পনা ছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। বরং শত্রুপক্ষের মধ্যেই ফাটল তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার শূন্যতা মোকাবিলায় ইরানের সংবিধান এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে বড় ধাক্কার মধ্যেও রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকে থাকতে পারে।
এদিকে তুরস্ক ও ওমানে সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন খামেনেই। তার দাবি, এসব ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ ঘটনা, যার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের পূর্ব প্রতিবেশীদের খুব ঘনিষ্ঠ মনে করি।
এছাড়া নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পুনরায় জানিয়েছেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে আগ্রহী নয়। আমাদের সমস্যা শত্রুদের হস্তক্ষেপের ফল। আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সব মতপার্থক্য দূর করতে চাই।
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন পেজেশকিয়ান।
ns coll