প্রকাশিত: November 8, 2026
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে, তালাকের হুমকি আর পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ। একের পর এক পারিবারিক সংকটে ভেঙে পড়েছিলেন আছিয়া বেগম (২৮)।
শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে বিষপান করেন তিনি।
মর্মান্তিক সেই ঘটনার পাঁচ দিন পর রবিবার (৮ নভেম্বর) ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন আছিয়া। এর আগেই প্রাণ গেছে তার ১৯ মাস বয়সী ছেলে জিসানের। আর পাঁচ বছরের মেয়ে তাবিয়া মিনহা এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলারণ গ্রামে বাবার বাড়িতে দুই সন্তানকে নিয়ে বিষপান করেন আছিয়া। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই মা ও দুই সন্তানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার পরেরদিন ছোট ছেলে জিসান মারা যায়।
পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রবিবার (৮ নভেম্বর) মারা যায় আছিয়া। গুরুতর অসুস্থ তাবিয়া এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের রূপাপাত গ্রামের আকমাল শেখের ছেলে আমিনুর শেখের সঙ্গে বিয়ে হয় পৌরসভার কলারণ গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকা আছিয়ার। তাদের সংসারে তিন সন্তান ছিল। বড় ছেলে দ্বীন ইসলাম (১০) স্থানীয় একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
অন্য দুই সন্তান তাবিয়া মিনহা ও জিসান।
আছিয়ার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা চলছিল। সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় দেড় বছর আগে আছিয়ার বাবা সত্তার মোল্যা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে আমিনুরকে বিদেশে পাঠান। কিন্তু তাতেও দাম্পত্য কলহের অবসান হয়নি। একপর্যায়ে তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন আছিয়া।
পরিবারের দাবি, গত ২৫ সেপ্টেম্বর আছিয়ার বাবার বাড়িতে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে আমিনুর ও তার পরিবারের সদস্যরা আবার বিদেশে যাওয়ার কথা বলে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আছিয়াকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টিও জানতে পারেন তিনি।
এরপরও সংসার টিকিয়ে রাখার আশা ছাড়েননি আছিয়া। দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমিনুরের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
আছিয়ার বাবা সত্তার মোল্যা জানান, গত ৩ নভেম্বর বিকেলে স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরই দুই সন্তানকে নিয়ে বিষপান করেন আছিয়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে আছিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আছিয়ার করা নারী নির্যাতন ও যৌতুক দাবির মামলায় তার স্বামীও আসামি। তিনি পলাতক রয়েছেন।