প্রকাশিত: August 10, 2026
ভারতের মহারাষ্ট্রে নারীদের জন্য চালু করা মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাড়কি বহিন যোজনা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি যাচাই-বাছাইয়ে প্রায় ৯০ লাখ সুবিধাভোগীকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের তালিকায় প্রায় ২৯ হাজার পুরুষ এবং প্রায় ৮ হাজার সরকারি কর্মচারীর নামও পাওয়া গেছে।
নির্বাচনের আগে চালু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নারীরা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ রুপি করে পেয়ে আসছেন। বিপুল সংখ্যক নারী এই সহায়তার মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হলেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের জাতীয় হিসাব নিরীক্ষা সংস্থা।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ অনুমোদিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি রুপি বেশি ব্যয় করেছে। প্রকল্পের প্রথম অর্থবছরেই ৩৩ হাজার কোটি রুপির বেশি অর্থ ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ছাড়াই বিপুল অর্থ বিশেষ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের বিষয়টিও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে না পারা এবং যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্যতা ধরা পড়ায় প্রায় ৯০ লাখ সুবিধাভোগীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টিকে সরাসরি জালিয়াতি হিসেবে দেখতে নারাজ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অদিতি তাতকারে। অযোগ্য ব্যক্তিদের দেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চালু হওয়া এই প্রকল্প রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, নারীদের একটি বড় অংশের সমর্থন ক্ষমতাসীন মহাযুতি জোটের নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছিল।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, নগদ অর্থ বিতরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিশুযত্নের মতো দীর্ঘমেয়াদি জনসেবামূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের বড় আকারের নগদ সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।