প্রকাশিত: August 13, 2026
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত আসামিদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কীভাবে এবং কতটুকু বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে নির্দেশনা চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন করার পাশাপাশি এ বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান চিফ প্রসিকিউটর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের বিধান আইনে থাকলেও তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউরসে উল্লেখ নেই। ফলে আগের মামলাগুলোতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ থাকলেও সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “এর আগে যে ছয়টি মামলার রায় হয়েছে, সেখানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। অনেককে অর্থ জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া রুলস অব প্রসিডিউরসে সুনির্দিষ্ট না থাকায় সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি।”
এ কারণে প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৬ ধারায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের একটি বিধান রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৩ সালের আইনের আওতায় পরিচালিত হওয়ায় এর রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, সরকার কী প্রক্রিয়ায় জরিমানা আদায় ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান প্রয়োজন। এ জন্য প্রচলিত আইন অনুসরণ করে বিষয়টি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরির কথা ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকর করতে ট্রাইব্যুনালের আইনের কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ নির্দেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা আদায়ের বিধান কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।