প্রকাশিত: September 1, 2026
নওগাঁর মান্দায় ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের দুই মূলহোতা সুলতান ও পারভেজকে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে বেআইনি কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল সুলতান ও পারভেজ। এলাকার কিশোরদের জোরপূর্বক তাদের ক্লাবে যোগ দিতে বাধ্য করা হতো এবং রাজি না হলে মারধর করা হতো।
এই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তুরুকবাড়িয়া এলাকার সাফিয়াল জাবের নীরবকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালান তারা। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা পুনরায় ফায়ার করে। এসব ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা করা হয়।
এসব ঘটনার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাওন, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা ও রানীনগর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ চৌকস দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিসিস করে পুলিশ জানতে পারে আসামিরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এরই ভিত্তিতে অন্যান্য জেলার পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে বগুড়ার শেরপুর থানাধীন ‘ফুড ভিলেজ’-এর সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নিজেদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার রাত ১টা ২৫ মিনিটে সুলতানের বসতঘরের চালের কার্নিশের উপর থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্র ও মালামাল জব্দ করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ হলো- ১টি দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির ওয়ান শুটার গান, ১টি ধারালো ডেগার (বাটসহ ১৮ ইঞ্চি ও বাট ছাড়া ১২ ইঞ্চি লম্বা), ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু, ২টি পুরাতন চাকু, ১টি খুর চাকু, ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬৮৫০ টাকা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসামি সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানার বহুল আলোচিত চৌকিদারের ছেলেকে হত্যা মামলা, সাইবার সুরক্ষা আইন এবং মারামারিসহ মোট ৪টি মামলা রয়েছে। তারা আগে হত্যা মামলায় আটমাস কারাভোগও করেছেন। অপরাধ সংঘটনের সুবিধার্থে আসামিরা সবসময় সঙ্গে সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু বহন করতেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা অসামাজিক কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।