ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের জন্য কোটি টাকার শিক্ষা সহায়তা

প্রকাশিত: September 6, 2026

  • শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় রাজ্য সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যেখানে স্থানীয় মার্কিন নাগরিকেরা নিজেদের পড়াশোনার চড়া খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ঋণে জর্জরিত হচ্ছেন, সেখানে নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের পেছনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করাকে চরম বৈষম্য বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন অবৈধ বা নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের রাজ্য তহবিলের অনুদানসহ নানা আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে। তারা ‘ইন-স্টেট টিউশন রেট’ বা স্থানীয়দের সমান ফি দেওয়া, কমিউনিটি কলেজের ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুযোগ পাচ্ছে। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ।

 

এদিকে মধ্যবিত্ত মার্কিন পরিবারগুলোর বার্ষিক টিউশন ফি যেখানে ৪৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দাঁড়ায়, সেখানে তাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই উল্লেখযোগ্য রাজ্য সহায়তা পান না। ইউনিভার্সিট অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থী আভা শ্মিট জানান, বিপুল বার্ষিক খরচের বিপরীতে তিনি পেয়েছিলেন সামান্য অর্থ সাহায্য। ফলে তার বাবাকে অবসরের জমানো তহবিল ভেঙে এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে পড়ালেখার খরচ জোগাতে হচ্ছে। অন্যায্য এই ব্যবস্থার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই অভিজ্ঞতা অরেঞ্জ কাউন্টির চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কুপার ভিনসিকের। স্নাতক শেষ করার আগেই হাজার হাজার ডলারের ঋণের বোঝা মাথায় চাপছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় চলা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে অভিবাসীদের বেশি সুবিধা দেওয়া অনুচিত।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম অ্যাক্ট এবং ড্রিম লোনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুল বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চরম উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এমন ব্যয় সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি জয়ী হলে এই সহায়তা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

অন্যদিকে গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের দপ্তর থেকে এসব অভিযোগ খণ্ডন করে বলা হয়েছে, কেবল অভিবাসন মর্যাদার কারণে কেউ অতিরিক্ত সহায়তা পায় না। মূলত আয় ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পেয়ে থাকে এবং এর ফলে সামগ্রিকভাবে রাজ্যে ছাত্র ঋণের হার জাতীয় হারের চেয়ে অনেক কম রয়েছে।

  • শেয়ার করুন