১৮ মাস পর নিঝুম হত্যার রহস্য উন্মোচন–দাবি পুলিশের

প্রকাশিত: September 26, 2026

  • শেয়ার করুন
ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম খাতুনের (১৭) হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) নামের এক যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে নিঝুম নিখোঁজ হয়। পরে তার মা তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর দীর্ঘদিন মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় অপহরণ মামলা করেন তিনি।

পরে নিখোঁজের রহস্য উন্মোচনে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেল তদন্ত শুরু করে।

একপর্যায়ে মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মাশরিকুল রহমান জিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জিম জানান, নিঝুমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়ানোর কথা বলে নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান তিনি।

সেখানে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে চড় মারলে অচেতন হয় সে। পরে তাকে রেললাইনের নিচের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন জিম। 

জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী দল তাকে সঙ্গে নিয়ে পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।

তদন্তে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ সেখান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল।

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় দাফন করা হয়েছিল। 

পরবর্তীতে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আর্কাইভে সংরক্ষিত মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে তদন্তকারী দল। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন।

মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, জিম আদালতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন।

  • শেয়ার করুন