নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি, যোগ দিতে এসে ধরা ভুয়া প্রার্থী

প্রকাশিত: October 4, 2026

  • শেয়ার করুন

ভূমি মন্ত্রণালয়ের জনবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে এক ভুয়া প্রার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ছবি, পরিচয় ও হাতের লেখার নমুনা যাচাই করে তার পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সাতটি ক্যাটাগরিতে ৩৭টি শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে গত ১৩ আগস্ট চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর ৩৪ জন প্রার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদানপত্র জমা দেন।
যোগদানের সময় প্রাথমিকভাবে তাদের তথ্য যাচাই করা হয়।

এরপর গতকাল ৪ অক্টোবর যোগদানকারী কর্মচারীদের ছবি, পরিচয় ও অন্যান্য নথিপত্র আবারও পরীক্ষা করা হয়। এ সময় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মো. আব্দুল হাই ও মোসলেহা বেগমের ছেলে মো. মাইদুল ইসলামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তার রোল নম্বর ১৭০০২৭০৭।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৌখিক পরীক্ষার সময় সংরক্ষণ করা ছবি ও শারীরবৃত্তীয় তথ্যের সঙ্গে গতকাল উপস্থিত ব্যক্তির চেহারার স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়। এ ছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় নেওয়া হাতের লেখার নমুনার সঙ্গেও তার হাতের লেখার মিল পাওয়া যায়নি। পরে অন্য নিয়োগপ্রাপ্তদের সামনে তাকে হাজির করা হয়। তারা উপস্থিত ব্যক্তিকে মাইদুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। একইভাবে ওই ব্যক্তিও মাইদুল ইসলাম বা তার সঙ্গে যোগদানকারী অন্য কাউকে চিনতে পারেননি।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে ওই ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে যোগদানের চেষ্টা করেন।

ঘটনার পর মাইদুল ইসলামকে শাহবাগ থানার এসআই মো. আবুল কালামের মাধ্যমে থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি, প্রতারণা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

  • শেয়ার করুন