প্রকাশিত: October 4, 2026
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই শনিবার এ হামলার দাবি করা হলো। খবর আল জাজিরার।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে হুতিরা।
হামলাগুলো সুনির্দিষ্ট ও সরাসরি ছিল দাবি করে তিনি বলেন, এর ফলে ওই স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
তবে পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি হুতিদের রিয়াদে হামলার দাবি বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন। শনিবার সৌদি গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
রোববার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তারা হুতিদের শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতে তোর আল-বাহা ফ্রন্ট ও তাইজ অক্ষে ৯৭টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে। যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার ব্যবহার করে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানায় জোটটি।
ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি দাবি করেন, এসব হামলায় অন্তত ২৬০ হুতি যোদ্ধা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন এবং ৪৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অচল করা হয়েছে।
গত মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবিও করেছিল হুতিরা। সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তাইফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। আরামকোর স্থাপনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, মঙ্গলবার মুসলিমদের পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। ২০২২ সালে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি জুলাইয়ে ভেঙে পড়ার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা বাব আল মান্দেব প্রণালির কৌশলগত দ্বীপগুলো ও বন্দরনগরী মোকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অ্যান্টি-হুতি বাহিনী পরে নিজেদের অবস্থান স্থিতিশীল করে।
লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটিতে যুদ্ধ চলছে। ওই সময় ইয়েমেন সরকারকে এডেনে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।