প্রকাশিত: October 6, 2026
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল শুরু করেন জোটের সংসদ সদস্যরা।
মিছিলের সামনে থাকা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে পুলিশ একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। একপর্যায়ে তিনি একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা নাড়েন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তার পক্ষে স্লোগান দেন।
রাহুল গান্ধী ও তার বোন কংগ্রেসের এমপি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাকে পরে আটক করে পুলিশ। তাদের একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়। তবে কিছু সময় পর তারা বাস থেকে বের হয়ে আবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার ছিল। তারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলন করছে বিরোধীরা।
তবে ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝাগম (ডিএমকে) ও আম আদমি পার্টি (এএপি) অংশ নেয়নি।
কংগ্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে অভিযোগ নিয়ে তারা আগামী কয়েক মাস আন্দোলন চালিয়ে যাবে। দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০-২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল মিছিল এবং প্রচারপত্র বিতরণ থাকবে।
২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ পর্যায়ে জনসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে কংগ্রেসের। এতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেবেন।
১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করার কথা রয়েছে। এরপর ২৫ ও ২৬ নভেম্বর দিল্লির আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয়টি আলাদা মিছিল বের করা হবে। ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির এসব মিছিল ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান দিবসে দিল্লিতে এসে মিলিত হওয়ার কথা।
কংগ্রেস জানিয়েছে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিযোগ তুলে ধরা হবে। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার পরিকল্পনাও করছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে একটি মামলার শুনানি চলছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। আদালত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে রাজি হয়নি আদালত। মামলাটির পরবর্তী শুনানি চলবে।