নিখোঁজের পর বাথরুমে মিলল যুবকের মরদেহ, ঝলসানো ছিল বুক-মুখ

প্রকাশিত: October 6, 2026

  • শেয়ার করুন
নাটোরের বড়াইগ্রামে নিখোঁজের ৬ দিন পর পাশের বাড়ির নির্মীয়মাণ বাথরুম থেকে শফিকুল ইসলাম খাঁ ওরফে শফিক (৩০) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর খাসপাড়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণাধীন বাড়ির নির্মীয়মাণ বাথরুম থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শফিক ওই এলাকার মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, হেরোইন কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পাশের বাড়ির নির্মীয়মাণ বাথরুমের ভেতর লাশ ফেলে রাখে।

মৃত শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে হেরোইন কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্বে শফিককে খুঁজতে বাড়ি আসে একই এলাকার পিচ্চি শাজাহানের ছেলে মাদককারবারি সোহেল, সোহেলের মা সাজেদা বেগম সাজু, খালা মাজেদা বেগম মাজু, সোহেলের বোন সুমী খাতুন ও সোহেলের ছেলে সোহাগ।

এ সময় শফিককে না পেয়ে তারা শফিকের মা জাহেরা বেগমকে মারধর করে। এরপর থেকে শফিককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।মৃত শফিকের চাচি মেহেরুন্নেছা জানান, তার ভাতিজা শফিকের মোবাইল ফোনটি মাদককারবারি রাকিবের কাছে পাওয়া যায়।

তিনি আরো জানান, শফিকের মুখমণ্ডল ও বুকের অংশ পুড়ে যাওয়ার মতো ঝলসানো ছিল।

বাথরুমের মধ্যে খালি গায়ে উপুড় হয়ে লাশটি পড়ে ছিল, পড়নে ফুলপ্যান্ট, পায়ের জুতো খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাইয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে বিচার দাবি করেন তিনি।মৃত শফিকের মা জাহেরা বেগম জানান, তার ছেলেকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান তিনি।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

  • শেয়ার করুন