ওসিকে হুমকি দেয়া সেই বিএনপি নেতা সাগর বহিষ্কার

প্রকাশিত: October 7, 2026

  • শেয়ার করুন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিক দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় বহিষ্কারাদেশে।

এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ এবং সব দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ ওঠে সোমবার (৫ অক্টোবর) নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনি বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ রয়েছে, বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহিদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে মতিউর রহমান সাগরের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে আসেন অর্ণবের চাচা আব্দুস সালাম।

অভিযোগ ওঠে, আব্দুস সালামকে মারধর করে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ ট্যাগ দিয়ে থানায় নেয়ার চেষ্টা করেন সাগর ও তার অনুসারীরা। পরে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সাগরের করা অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ কোনো সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে মতিউর রহমান সাগর বলেন, ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে।’ এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

ওসিকে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তারা যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে আসে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে নড়িয়া থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লিখেছেন, ‘দল আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করিয়াছে। হতাশার কিছু নেই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিকভাবে আমি উপস্থাপন করতে সক্ষম হলে আমার বহিষ্কার অচিরেই প্রত্যাহার হবে ইনশাআল্লাহ।’

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে ওসিকে হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, তার সঙ্গে ওসির এ ধরনের কোনো কথা হয়নি।

সবশেষ এসব অভিযোগের মধ্যেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগে মতিউর রহমান সাগরকে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িক বহিষ্কার করল শরীয়তপুর জেলা বিএনপি।

  • শেয়ার করুন