পবিত্রকরণের’ নামে নারীকে প্রকাশ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয় ভিডিও

প্রকাশিত: October 7, 2026

  • শেয়ার করুন

ভারতের গুজরাট রাজ্যে সুরেন্দ্রনগর জেলায় ‘পবিত্রকরণের’ দোহাই দিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নৃশংসতার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। খবর এনডিটিভির।

 

 

অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি ওই নারীকে আটকে রেখে চরম শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তা করছে। আর উপস্থিত জনতা তাকে নিয়ে উপহাস করছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়া হয়।

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীকে ছেড়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এরই জেরে তার স্বামী ও বেশ কয়েকজন আত্মীয় তাকে একটি বাড়িতে শেকল ও তালা দিয়ে অবৈধভাবে বন্দি করে রাখে। তিনি কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অভিযুক্তরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।

 

পরকীয়া সম্পর্কের কারণে ‘পবিত্রকরণ প্রক্রিয়ার’ অজুহাতে অভিযুক্তরা ওই নারীর ওপর চরম অত্যাচার চালায়। এ সময় যে ব্যক্তির সঙ্গে তিনি বাস করছিলেন, তাকেসহ ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ সময় পুরো ঘটনার ভিডিও-ও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে অন্যদের জন্য ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে সেই আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

 

জেলা পুলিশ সুপার প্রেমসুখ দেলু জানান, ভুক্তভোগী নিজে থানায় না আসায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

 

এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন নারীও রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

  • শেয়ার করুন