প্রকাশিত: October 24, 2026
জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের তিন সপ্তাহ না যেতেই বিএনপি নেতা সুজন মিয়াকে ছেড়ে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িচালক এমদাদুল হক অরচন মিয়ার (৪৫) সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুমি আক্তারের (২৭) বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমিকেও গ্রেফতার করা হয়। একইদিন বিকালে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে প্রতারণা ও সোনা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন বিএনপি নেতা সুজন মিয়া।
সুজন মিয়া উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
অভিযুক্ত অরচন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার বাসিন্দা। নববধূ সুমি আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার কামদেববাড়ী এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই সুমির পাতানো মামা অরচন তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় সুজন বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে অরচন তাদের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি সুমিকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
সুজনের মা, ছেলে বাড়ি ফেরার পর সুমিকে যেতে বললেও তিনি অরচনের সঙ্গে চলে যান। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না সুজন। ওই রাতে সুমির মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পান তিনি। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠান। তবে সেখানে সুমিকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে সুমি চলে গেছেন বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন সুজন।
পুলিশ জানায়, ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন অলঙ্কার দেন সুজন। এসব অলঙ্কারের মূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে সুজন মিয়া বলেন, বিয়ের ২০ দিনের মাথায় সে আমার সঙ্গে এমনটা করবে, তা কল্পনাও করিনি। কত আশা নিয়ে তাকে ঘরে এনেছিলাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, কখনো ভাবিনি।
মেলান্দহ থানার ওসি এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে নেওয়া হয়। এরপর আদালতের আদেশে শুক্রবার বিকালে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।