মেট্রোরেলে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট নিয়েই শেষ নিশ্বাস, বাবার মৃত্যুতে ছেলের পোস্ট

প্রকাশিত: October 28, 2026

  • শেয়ার করুন

ঢাকায় মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোকে মারা গেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নাজিবুর রহমান। মৃত্যুর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করে আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসার জায়গা চেয়েছিলেন তিনি। তবে কেউ তাকে বসার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বাবার মৃত্যুর এই হৃদয়বিদারক ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে তার বাবা মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফিরছিলেন। শেওড়াপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে তিনি তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই নিচে পড়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

নাকিবুর রহমান লিখেছেন, মৃত্যুর আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় তার বাবা আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেউ তাকে একটি আসন ছেড়ে দেননি।

বাবার মৃত্যুর এই স্মৃতি মেনে নেওয়া কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ বাবার মৃত্যুকে সহজ করে দিয়েছেন, তবে সন্তান হিসেবে এ কষ্ট সহ্য করা কঠিন। অবশ্য এ ঘটনায় কারও প্রতি তার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই বলেও জানান তিনি।

মেট্রোরেলে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন থাকলেও প্রবীণরা প্রায়ই সেই সুবিধা পান না বলে পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অনেক বয়স্ক মানুষকেই বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।

প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের তাগিদ দিয়ে তিনি লেখেন, চলাফেরার সময় বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিকদের যেখানেই যে অবস্থায় পাওয়া যায়, তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত। আজ যাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, তিনি নিজের বাবা না হলেও অন্য কারও বাবা।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেট্রোরেলে যাতায়াতের নিয়মকানুন নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা বা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি লেখেন, চলাফেরার সময় আশপাশের মানুষের সুবিধার দিকে খেয়াল রাখাই একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়।

  • শেয়ার করুন