প্রকাশিত: October 29, 2026
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রশাসক নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত চেয়ে করা আবেদনটি খারিজ হয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর পর সিটি করপোরেশনগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা দৃশ্যমানভাবে ভালো কাজ করছেন। পরের নির্বাচন পর্যন্ত তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি ক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি কত দিন বহাল থাকবে, তা নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘রিটের মূল বক্তব্য ছিল, বিশেষ পরিস্থিতি না থাকায় সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। তবে আদালত আবেদনকারীদের যুক্তি গ্রহণ করেননি। রিটটি অপরিপক্ব বিবেচনায় খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।’
গত ৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়াসহ ছয়জন এ রিট আবেদন করেন। রিটে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট ৬ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়।
এর আগে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশনে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ২৫ক ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরের আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের জন্য বিধি অনুযায়ী তারা সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।