প্রকাশিত: November 3, 2026
হৃদয়ন আনসারী ঘিওর উপজেলার মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে।
পরিবার ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর এলাকায় বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন হৃদয়ন। পথে আব্দুল্লাহপুর থেকে মগবাজার যাওয়ার জন্য প্রভাতী বনশ্রী বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি উত্তরা আজমপুর এলাকায় এলে তার পাশে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি এসে বসেন। এর পরপরই হৃদয়ন চেতনা ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে তার মোবাইলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হৃদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী জানান, অপহরণকারীরা তার ভাইকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল। সারাদিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো এবং সারাক্ষণ তার হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে তার ভাইকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে একটি ট্রাকে চড়ে তার ভাই নবীনগর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় আসেন। সেখানে এক ব্যক্তির মোবাইলফোন থেকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকার বাসায় নিয়ে আসা হয়। টানা নয়দিন বন্দি থাকায় হৃদয়ন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার শরীরে জ্বর ও ব্যথা রয়েছে এবং কথা বলতেও কিছুটা অস্পষ্টতা দেখা দিচ্ছে। তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছে।
শাহরিয়ার আনসারী আরও বলেন, অপহরণের পরদিন (২৫ অক্টোবর) ভোরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে হৃদয়নকে জীবিত ফেরত দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ ও নগদ নম্বরে দফায় দফায় ৪০ হাজার টাকা পাঠান তারা। কিন্তু টাকা পেয়েও অপহরণকারীরা তার ভাইকে ছেড়ে না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ ছাড়া হৃদয়নের মোবাইলফোন, ইমেইল, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
এদিকে, অপহৃত হৃদয়নকে উদ্ধারের দাবিতে গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।