প্রকাশিত: November 8, 2026
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি স্থানে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। একই দিন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দেশটির সামরিক তৎপরতার সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেননি ইরানি কর্মকর্তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেশম, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঘটনাগুলোকে হামলা হিসেবে উল্লেখ করেনি সংস্থাটি।
অন্যদিকে আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ওই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন আগে চালানো ওই হামলার বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, দ্বীপটিতে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে। এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত নয়।
এদিকে রোববার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইনের আঘাতে তেলবাহী দুটি জাহাজে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে গতকাল সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দর থেকে আসা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটি অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি তাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য, অবরোধ লঙ্ঘনের চেষ্টা করায় একটি যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির পেছনের অংশে গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি আবারও হামলা শুরু করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
ইরান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান।