প্রকাশিত: November 8, 2026
সাত বছর সংসার করেও সন্তানের মুখ দেখা হয়নি। তাই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সংসার জীবনের ইতি টানলেন স্বামী। তবে সেই সংসার টিকিয়ে রাখতে ও তালাক না দিতে পায়ে ধরে আর্তনাদ করলেও মন গলেনি স্বামীর।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে মাসকাটা গ্রামে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় সালিশের সময় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
স্ত্রীকে তালাক দেওয়া সেই যুবকের নাম মো. রনি খাঁ। তিনি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভবনের চর গ্রামের কাজল খাঁর ছেলে।
চাকরিসূত্রে বর্তমানে পরিবার নিয়ে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার চৌদ্দপাইকা গ্রামে বসবাস করেন। তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ইতি আক্তার হিজলা উপজেলার মাসকাটা গ্রামের রিকিম আলী সরদারের মেয়ে।
ওই দম্পতির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রনি ও ইতির। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়েও সন্তান না হওয়ায় তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই ছিল।
একপর্যায়ে স্ত্রীকে দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে রেখে যান স্বামী রনি। এমনকি দীর্ঘদিন খোঁজ-খবর না নেওয়ায় হিজলা থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্ত্রী।
পরবর্তীতে শনিবার রাতে ইতি আক্তারের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশে মীমাংসার চেষ্টা করেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা সংসার করার জন্য স্বামী রনির প্রতি অনুরোধ জানান।
এমনকি সালিশের মধ্যে স্বামীর পা জড়িয়ে আকুতি-মিনতি করে কান্নায় ভেঙেও পড়েন স্ত্রী ইতি আক্তার। কিন্তু কোনো কিছুতেই মন গলেনি রনির। তালাক দিয়ে সাত বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন তিনি।
‘স্বামীর সংসার করতে চেয়েছিলাম’ দাবি করে এ বিষয়ে ইতি আক্তার বলেন, ‘আমি সম্পর্ক ভেঙে না দেওয়ার জন্য স্বামীর কাছে অনেক অনুরোধ করেছি। এমনকি সংসার রক্ষার আশায় স্বামীর পায়ে ধরেও আকুতি-মিনতি করেছি। কিন্তু কোনো অনুরোধেই সে শোনেনি।’
অভিযুক্ত স্বামী রনি খাঁ বলেন, ‘আমার স্ত্রী সন্তানধারণে অক্ষম। তাকে বরিশাল, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু কোনো উপকার হয়নি। আমার স্ত্রীর কোনো সন্তান হবে না। তাই তাকে তালাক দিয়েছি। এখানে সমস্যা কোথায়?’
হিজলা থানার উপ-পরিদর্শক আলী আজগর বলেন, ‘মেয়েটি থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে আমি জানতে পারি এটা তাদের দাম্পত্ত কলহ। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্বামী-স্ত্রীকে কাউন্সেলিং করে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুনলাম তাদের সংসারটা আর টেকেনি। শনিবার মেয়ের বাড়িতে পারিবারিকভাবে বসে তালাক হয়েছে।’