প্রকাশিত: October 8, 2025
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক থাকা অবস্থায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ইতালির গাজায় অবস্থানরত মানবাধিকারকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট ক্যাপ্টেন জিউসেপ্পে ক্লোটিল্লা (জিপ্লুক)। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ক্যাপ্টেন ক্লোটিল্লা ও তার সহকর্মীদের জাহাজটি ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে।
জিপ্লুক দীর্ঘদিন ধরে গাজায় মানবিক সহায়তা ও শান্তি মিশনে কাজ করছিলেন। তিনি ৪৫টি দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। আটক হওয়ার পর তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানা গেছে। কারাগারে অবস্থানকালে তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে শুরু করেন এবং সহবন্দিদের অনুপ্রেরণায় ইসলাম গ্রহণ করেন।
মুক্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘কারাগারে আমি এমন কিছু মানুষকে পেয়েছি, যারা অমানবিক কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখতেন। তাদের আচরণ ও সহানুভূতি আমাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন ও উদ্দেশ্য দিয়েছেন।’
ইসলাম গ্রহণের পর জিপ্লুকের নামকরণ করা হয় শাহাদা পার্থ। ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি বলেন, ‘প্রিয়জনদের সঙ্গে আমার দেখা না হলেও আমি আত্মিকভাবে শান্তি অনুভব করছি।’
ইসরায়েলি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহাদা পার্থকে মুক্তির পরপরই সেলে একটি সাদা চাদর ও পবিত্র কুরআন সরবরাহ করা হয়। মুক্তির দিন তিনি তা সঙ্গে নিয়েই জেলখানা ত্যাগ করেন।
ইতালির বার্তাসংস্থা বোরেত্তোলানজিয়া জানিয়েছে, শাহাদা পার্থের ইসলাম গ্রহণকে “অধ্যবসায়, মানবতা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, “তার এই সিদ্ধান্ত শুধু ধর্মীয় নয়, মানবতার পক্ষেও এক নতুন সূচনা।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ফিলিস্তিনে কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের সাংবাদিক অ্যালেকজান্দ্রা মোরিস গাজায় মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
সংবাদ সংস্থা: বিবিসি/এক্সপ্রেসচ্যানেল