টাঙ্গাইলে ঘনঘন লোডশেডিং ও ‘ভুতুড়ে’ বিল, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

প্রকাশিত: August 11, 2026

  • শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহার একই থাকলেও কোনো কোনো মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই মনগড়া রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কাগজে উল্লেখ করা ইউনিটেরও মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা। কয়েকজন গ্রাহক মিটার রিডারদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগও তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলারঘোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু হানিফ জানান, তার বাড়িতে তিনটি লাইট, তিনটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ রয়েছে। নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত থাকলেও তার বিলে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ ইউনিট যোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবু হানিফ বলেন, আগে তার মাসিক বিদ্যুৎ বিল সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে প্রায় ২ হাজার টাকা বিল আসছে। মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কোনো মিল নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ডেকরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদ অভিযোগ করেন, তার বাসার মিটারের প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউনিট অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। বিষয়টি মিটার রিডার ও বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও সমাধান পাননি বলে দাবি তার।

জাহিদ নামে আরেক গ্রাহকের অভিযোগ, টাঙ্গাইলের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অস্বাভাবিক বিলের সমস্যায় ভুগছেন। কোথায় অভিযোগ করলে দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে, সেটিও অনেক গ্রাহকের কাছে পরিষ্কার নয় বলে জানান তিনি।

শুধু প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তির বাইরে নন। তাদের অভিযোগ, প্রতি মাসে মিটার ভাড়া বাবদ ৪০ টাকা করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রিচার্জের সময় নির্দিষ্ট কোড ব্যবহারে ভুল হলে একাধিকবারের পর মিটার লক হয়ে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান গ্রাহকরা।

এদিকে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

জেলা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের জেলার সাত উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার। এসব এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কচুয়াডাঙ্গা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বিল নিয়ে কোনো গ্রাহক অভিযোগ করলে বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

জেলা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আল মামুন বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও সমস্যায় পড়ছেন। বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে গ্রাহকদের দাবি, লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিলের সমস্যারও দ্রুত সমাধান করতে হবে। নির্ভুল মিটার রিডিং, স্বচ্ছ বিলিং ব্যবস্থা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

  • শেয়ার করুন