প্রকাশিত: August 11, 2026
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরির পর মালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি চক্র। মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল নম্বরের স্লিপ রেখে যাচ্ছে তারা। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলেই চুরি যাওয়া মিটার ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পাঠানোর পরও নতুন করে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। ভুক্তভোগীরা সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন। মিটার চুরি ও পরে টাকা দাবির ঘটনায় স্থানীয় রাইস মিল মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ ও শান্তিরাম ইউনিয়নের কয়েকটি রাইস মিল থেকে সম্প্রতি পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরি হয়েছে। সকালে মিল খুলতে এসে মালিকরা দেখতে পান, বিদ্যুৎ মিটারটি নেই। তবে মিটারের স্থানে পড়ে রয়েছে একটি সাদা কাগজের স্লিপ, যাতে একটি মোবাইল নম্বর লেখা।
ওই নম্বরে ফোন করলে জানানো হয়, চুরি যাওয়া মিটার তাদের কাছে রয়েছে। মিটার ফেরত পেতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর পর মিটার কোথায় রাখা হবে, তা জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরই শুরু হয় নতুন করে টাকার দাবি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই কায়দায় একাধিক রাইস মিল থেকে মিটার চুরি এবং পরে টাকা দাবি করায় এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড হতে পারে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী রাইস মিল মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল নম্বরের স্লিপ পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশে টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর পরও আবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।
আরেক ভুক্তভোগী মো. আবদুর রউফ মিয়া বলেন, মিটার চুরি যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে তার মিলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নতুন মিটার নিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতারকদের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন তিনি।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সুন্দরগঞ্জ) এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এ ধরনের পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো থানায় জানানো হয়েছে। মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে যেসব মোবাইল নম্বরের স্লিপ রেখে যাওয়া হয়েছে, সেগুলোও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মিটার চুরি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।