গোপালগঞ্জ শহরে দিন-রাত সমানতালে চলছে লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহকেরা।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওজোপাডিকোর কার্যালয় ও উপকেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা জোরদারের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছে ওজোপাডিকো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ওজোপাডিকোর দপ্তর, পাওয়ার হাউজ এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গোপালগঞ্জ শহরে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে অসন্তুষ্ট ব্যক্তি বা জনসাধারণ দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা হামলা চালাতে পারেন। এ কারণে দপ্তর ও উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশ টহলের আওতায় আনা এবং বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, গোপালগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে বর্তমানে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এতে গ্রাহকদের ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে এবং ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, তিনি এখনো চিঠিটি হাতে পাননি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।
দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি এখন বিদ্যুৎ বিভাগের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।