প্রকাশিত: August 12, 2026
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের পরবর্তী ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে তার নির্বাচনি আসন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) শূন্য হবে। ফলে আসনটিতে সম্ভাব্য উপনির্বাচন এবং বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে সর্বশেষ আলোচনায় মির্জা ফখরুলই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। তার রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ চূড়ান্ত হলে সংবিধান অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নাম। গত জাতীয় নির্বাচনেও বাবার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পেশায় চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক শামারুহ মির্জা দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সক্রিয় এই নেতার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কে বিএনপির প্রার্থী হবেন, তা নির্ভর করবে দলটির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলীয় তৎপরতা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচিতিও দীর্ঘদিনের। তার বাবা রুহুল আমিন (চখা মিয়া) কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ভূমিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং এর ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তাই এখন থেকেই স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন এবং উপনির্বাচনের প্রার্থী—দুই ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দলীয় ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।