নোয়াখালীতে নারীকে গলাকেটে হত্যা: ছেলে ও শাশুড়ি গ্রেপ্তার
প্রকাশিত: August 15, 2026
শেয়ার করুন
নোয়াখালীতে নারীকে গলাকেটে হত্যা: ছেলে ও শাশুড়ি গ্রেপ্তার
প্রকাশিত:
নোয়াখালী :
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাতে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
যেভাবে মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। লাইলির স্বামী আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমাতেন।
প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারছিলেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরার ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান।
পরে লাইলি ও তার ছেলে সৌরভ নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি দাদি তফুরা বেগমকে জানান।
তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরে সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন।
বাড়িতে গিয়ে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ জানায়, লাইলির গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। এছাড়া বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।
তদন্তে গ্রেপ্তার ছেলে ও দাদি
খবর পেয়ে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন বণিক জানান, প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে অসুস্থ হতে পারেন। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে কী কারণে লাইলি বেগমকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।