মাদক পাচারে কারবারিদের ‘গোয়েন্দা টিম’

প্রকাশিত: August 23, 2026

  • শেয়ার করুন

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) তথ্য আসে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে একটি চক্র গাড়িতে মাদকের চালান নিয়ে ঢাকায় ঢুকছে। সে অনুযায়ী ডিবির দলও অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু মাদকবাহী সেই গাড়ি আর পাওয়া যায় না। এমন ঘটনা ঘটে একাধিকবার। তবে শেষ পর্যন্ত গাড়িভর্তি ১০০ কেজি গাঁজা জব্দের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—মাদক কারবারিদেরও রয়েছে ‘গোয়েন্দা টিম’। সীমান্ত থেকে রাজধানী পর্যন্ত মাদক পাচারের রুটে এই টিমের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নজরদারি করে। পথে পুলিশ দেখলে সিগন্যালে মাদক পাচারের রুট ঘুরে যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের ওই অভিযানে ১০০ কেজি গাঁজাসহ একটি প্রাইভেটকার এবং তিন মাদককারবারিও গ্রেপ্তার হয়। তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম ওরফে বাবু, আমিনুল ইসলাম ওরফে মিঠু এবং ওমর ফারুক। তাদের মধ্যে মিঠু এই চক্রের গোয়েন্দা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাবু প্রাইভেটকারের চালক এবং ফারুক মাদক পাচারে গাড়ি সরবরাহ করে থাকে।

ডিবি জানিয়েছে, গত ১৭ আগস্ট ঢাকায় মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের ওপর এই অভিযান চালানো হয়। উড়াল সড়কের ওপর ডিবির অভিযানিক দলের কেউ বাদাম বিক্রেতার ছদ্মবেশ ও কেউ গাড়ির লাইন, লেন ঠিক করার দায়িত্বে থাকা উড়াল সড়কের কর্মীদের রূপ ধারণ করে চক্রটিকে গ্রেপ্তার করে।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার এনায়েত কবির শোয়েব। তিনি কালবেলাকে বলেন, সঠিক তথ্য থাকার পরও আগের অভিযানগুলোতে তারা মাদকবাহী প্রাইভেটকারটি ধরতে পারছিলেন না। তখন বুঝতে পারেন, অভিযানের তথ্য ফাঁস হচ্ছে কোনোভাবে। এরপর কৌশল পরিবর্তন করে উড়াল সড়কের ওপর নানাবেশে অবস্থান নেন তারা। ডিবি টিমের কেউ ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা, আবার কেউ উড়াল সড়কের টোলপ্লাজার লেন ডিসিপ্লিন ম্যানের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত চক্রটিকে ধরা সম্ভব হয়। এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা সীমান্ত থেকে প্রাইভেটকারে করে গাঁজার বড় চালান নিয়ে ঢাকায় ঢুকত। তবে ওই গাড়িটির কিছুটা সামনে অন্য একটি গাড়িতে মিঠু থাকত। কোথাও পুলিশের উপস্থিতি দেখলে সে মাদকবাহী গাড়িতে সিগন্যাল পাঠিয়ে রুট ঘুরিয়ে দিতো। মূলত তার গ্রিন সিগন্যালে গাড়ি সামনে যেত। ওই দিন ডিবির দল সোর্সের তথ্যানুযায়ী আগের রুটে ছদ্মবেশে অবস্থান নিলেও এরা বুঝতে পারেনি।

ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, চক্রটির সদস্যরা মোবাইল ফোনে কথা বলত না। বরং নিজেদের যোগাযোগের জন্য একাধিক অ্যাপস ব্যবহার করত। গ্রেপ্তার গাড়িচালক বাবুর কাজ ছিল মাদকের চালান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া। সে অত্যন্ত দুর্ধর্ষ গাড়িচালক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাড়ি তাকে চ্যালেঞ্জ করলে মুহূর্তের মধ্যেই দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সটকে পড়ত। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে।

  • শেয়ার করুন