প্রকাশিত: August 24, 2026
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খুলনার লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকার আশিবিঘা বালুর মাঠে পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুটি হত্যাকাণ্ডই ছিল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণতার ফল বলে জানিয়েছে র্যাব।
শুক্রবার(২০ আগস্ট) গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে টুটপাড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আলামিন হাসান সাইফি ও তার সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬। পরে সাগর আহমেদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শটগান, শটগানের গুলি, পিস্তল ও চাপাতিসহ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শনিবার র্যাব-৬-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ।
তিনি জানান, খুলনার টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাইফি গ্রেনেড বাবুর সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে রফিক নগরীর অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ-রোহন বাহিনীর হয়ে ওই এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন।
র্যাব জানায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে চুল কাটার পর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজমুল। এ সময় রফিক বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যায়। পরে ভিডিও কলে রেখে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তার দলের ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণটানার আশিবিঘা এলাকায় যায়। সেখানে প্রতিপক্ষের সদস্য মনজুরুলকে সামনে পেয়ে তার বাবার সামনেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
নিস্তার আহমেদ বলেন, সন্ধ্যায় মনজুরুলকে হত্যার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকেও হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তার মরদেহ আশিবিঘা এলাকায় ফেলে রাখা হয়। একই দিনে পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলের আশপাশে অভিযান চালিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার সাইফির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও অস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার সাইফি গ্রেনেড বাবুর একান্ত সহযোগী কাউয়া মিরাজের নির্দেশনায় এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।