প্রকাশিত: August 25, 2026
সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসে ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মানবপাচার চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টার উদ্ধার করা হয়েছে।
গত রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. শামীম (৪০), মো. রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) ও মো. সানি মিয়া (২৫)।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসে ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে এক ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকার একটি অফিসে যেতে বলা হয়। সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
তবে প্রতিশ্রুত ড্রাইভিং ভিসার বদলে ওই ব্যক্তিকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। পরে তিনি বনানী থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, চক্রটি একইভাবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখত চক্রটির সদস্যরা।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য, পলাতক আসামি এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা ও পাসপোর্ট না দেওয়ার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করেছে সিআইডি।