প্রকাশিত: September 24, 2026
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা পুলিশ। কিশোর গ্যাং ও বখাটেপনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশি নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুমিল্লা নগরীসহ ১৮টি থানার আওতাধীন বিভিন্ন স্পট, যেখানে বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
তিনি জানান, আটক ৬২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের পূর্বের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে দাউদকান্দি থানায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন থানা কক্ষের দরজা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দাবি, একই কক্ষে অতিরিক্ত মানুষ হয়ে যাওয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের ধরে আবার থানায় ফিরিয়ে দেন।
একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষকে থানায় আনার পর তাদের স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড়েও কিছু এলাকায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে আটক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।