হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে

প্রকাশিত: September 24, 2026

  • শেয়ার করুন

হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মা। তার চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে রাখা দেড় লাখ টাকা তুলে নেওয়ার পর বড় ছেলে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে চিকিৎসার জন্য নেওয়া টাকা ফেরত দেবেন না বলেও শর্ত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ওই নারীর চিকিৎসা অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা জমা রাখেন তিনি। ভবিষ্যতে নিজের চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে টাকা দুটি ছেলে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ হিসাবে রাখা হয়েছিল।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই নারী তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে দুই ভাই যৌথ ব্যাংক হিসাব থেকে পুরো দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা তোলার পর আলাউদ্দিন কৌশলে ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে চিকিৎসার জন্য নেওয়া টাকা তিনি দেবেন না।

সালাউদ্দিনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বড় ভাই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মা এতে রাজি হননি। এখন মায়ের চিকিৎসা জরুরি হওয়া সত্ত্বেও টাকা আটকে রেখে জমি লিখে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এতে অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত অমানবিক বলে উল্লেখ করে বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগটি দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে সন্তানদের ওপর আস্থা রেখে মা টাকা জমা করেছিলেন। সেই অর্থই যদি তার সংকটময় সময়ে চিকিৎসায় ব্যবহার না হয়, তাহলে ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

এদিকে অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে চলে যাওয়া এবং তার সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়ার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • শেয়ার করুন