প্রকাশিত: October 1, 2026
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন সবার জন্য সমান নিশ্চিত করতে বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। গত ১৭ বছর দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল এবং মানুষকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দিয়েছে। বিএনপিকে যখন দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, আমরা সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কিন্তু আমরা খেয়াল করছি, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর মতো বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব কাজে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার ক্ষতি দেশের সাধারণ মানুষেরই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই কাজগুলো যদি বিঘ্ন ঘটে, ক্ষতি কার হবে? এ দেশের মানুষের, না বিদেশি মানুষের? এ দেশের মানুষেরই হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে এমন রাজনৈতিক শক্তির অতীত ভূমিকা দেশের মানুষের মনে আছে। একাত্তরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সে সময় তারা কীভাবে অন্যায় করেছিল এবং মা-বোনদের হয়রানি ও নির্যাতন করেছিল, তা প্রবীণ নাগরিকদের স্মরণে রয়েছে।
বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই রাজনৈতিক দল—যারা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে—১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা দেখেছি, তারা সেই সময় কীভাবে বিভিন্ন অন্যায় করেছিল, কীভাবে মা-বোনদের হয়রানি করেছিল, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল। যেভাবে তারা মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আমরা দেখছি আবার তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। আমরা দেখছি, এই গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছে এবং শুধু নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে। যে বিষয়টি তদন্তাধীন, সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলে, শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছে তারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখলাম, সেই গুপ্তদলের নেতারা খুব নসিহত করছে আমাদের—আপনারা এটা করেন, আপনারা ওটা করেন। আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমার আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফেনী সফরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এছাড়া বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।