সাবেক যুবদল নেতা নূর আলমসহ গ্রেপ্তার ১৬, এখনো অধরা অনেকে

প্রকাশিত: October 3, 2026

  • শেয়ার করুন

রাজধানীর শাহ আলী এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার নূর আলম (৩৮) শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গতকাল শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ভোরে মিরপুরের ছোট দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নূর আলমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজীব বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারও কারও বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। সবাইকে একসঙ্গে রিমান্ডে আনা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী এবং সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির কয়েকজন রয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম খোকন শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য এবং মো. আলম শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি। স্থানীয় বিএনপি ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, এই দুজন সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির তথ্যও নিশ্চিত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দিতে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর বহনকারী বড় গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরটি হেমায়েতপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এক্সক্যাভেটরটি কারা ভাড়া করেছিলেন, তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানতে পারেননি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন সমিতির সম্পাদক শাহ আলম, অফিস সহকারী শাহাদাত এবং সদস্য আতিকুর ও কামরুল। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই তরুণেরা টাকার বিনিময়ে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত ১৪ জনের মধ্যে কয়েকজনেরও হামলায় সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দারুস সালাম থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব শান্ত রহমান, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সদস্য হুজাইফা এবং দারুস সালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান। তবে তাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা হানিফ মিয়াসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আরও কয়েকজনকেও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছিল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলসহ আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়। এর পরদিনই পদত্যাগ করেন মিষ্টি।

দীর্ঘদিন ধরে সমমনা দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে রাড্ডার জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ১০ কাঠা ওই জমিতে শিশু ও মাতৃসেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা। সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ওই হামলার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। হামলা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকে তারসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার অনুসারী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

  • শেয়ার করুন