প্রকাশিত: October 3, 2026
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে স্থল অভিযান, বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সহায়তায় তৈরি হচ্ছে বড়সড় এক সামরিক সংঘাতের পটভূমি। এ অভিযান শুরু হলে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় অগ্রসর হয়ে হুতিদের দখল করা ভূখণ্ড পুনর্দখলসহ একাধিক দিক থেকে একই সময়ে হামলা চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব-লা মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং হুতিদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো।
অভিযানের প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৬ আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। তবে ঠিক কবে হামলা শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি ও সামরিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থল অভিযানের মূল দায়িত্ব থাকবে ইয়েমেনি বাহিনীর হাতে। এক লাখের বেশি সেনা এই অভিযানে অংশ নিতে পারে। তাদের তদারকি করবে সৌদি আরব। স্থলবাহিনী যখন হুতিদের অবস্থানের দিকে অগ্রসর হবে, তখন আকাশপথে হামলা চালিয়ে তাদের সহায়তা দিতে পারে সৌদি যুদ্ধবিমান।
সম্ভাব্য এ অভিযানে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার কাজে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি এই অভিযানে অংশ নেবে, এমন কোনো পরিকল্পনার কথা জানা যায়নি।
কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরও কিছু দেশ সৌদি আরবকে সহায়তা করছে। তুরস্ক, পাকিস্তান, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ সৌদিকে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান সৌদি সীমান্তে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি এডেনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামানের গোলা, ড্রোন ও ড্রোন বিরোধী প্রযুক্তি ভর্তি চারটি কার্গো বিমান পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ।
অপরদিকে সৌদি আরবের পূর্বে কেনা তুর্কি ড্রোনগুলো ইয়েমেনের আকাশ নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্রান্সও লোহিত সাগরের বন্দর নগরী ইয়ানবু সুরক্ষায় ডিফেনসিভ সিস্টেম এবং সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ইয়েমেনের বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা। কারণ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বার্থ এক নয়। ফলে বিপুলসংখ্যক সেনা মাঠে নামালেই যে দ্রুত সাফল্য আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
অন্যদিকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছাড়াও হুতিদের আছে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতা। সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করলে, তারাও পাল্টা হামলা চালাবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই। একবার বড় আকারের স্থল অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সেটি এক বিশাল অনিশ্চয়তা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে সতর্কতা জানিয়ে ইরান বলছে, হুতিদের ব্যাপারে তাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা সহায়তা নেই। সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিচ্ছে তারা।