প্রকাশিত: October 5, 2026
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৩০ জেলায় অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে নানা অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানকালে নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ছাড়াও ভোজ্যতেল, ডিমসহ নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সঠিক ওজনের মতো বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা ছাড়াও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ ও এলপিজি সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম নেয়া বন্ধ করতে এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রোববারের অভিযানে সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দু’টি এলপি গ্যাস ডিলার প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া যায়। অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে হাজি আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠান দু’টির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা ছাড়াও প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সময় কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকারও জব্দ করা হয়।

এ ছাড়াও বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনাকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত ও পণ্য সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শনের পাশাপাশি সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতের বিষয়েও সতর্ক করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি, পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে না মেশানো এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি সঠিক ওজন বুঝে নেয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা এবং ক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশের বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।