প্রকাশিত: October 6, 2026
প্রকাশিত:
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত বঙ্গোপসাগর সংলাপ-এর ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে। তার মতে, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারত বা দুই দেশের সম্পর্কের কোনো উপকারে আসছে না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটি হবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সফর। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দিল্লিতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।
হাসিনাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা হাসিনা সরকারের পতনে দেশের মানুষ জীবন দিয়েছে। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সূচনা প্রয়োজন।
তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, ভারত হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে বলে তিনি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনোই ভারত সফরে যাবেন না—এমন কথা বলেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লি তার মতামতকে গুরুত্ব দিলে সব পর্যায়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। দুই সরকার জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসলে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় বসে কেউ ভারতের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না উল্লেখ করে দিল্লির কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখবে। তবে পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনও বজায় রাখা হবে। পরিবর্তিত বাংলাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।