রোগীকে ফাঁদে ফেলে গোপন ভিডিও, ৩ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য!

প্রকাশিত: October 6, 2026

  • শেয়ার করুন

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরিচয়। এরপর সহযোগিতার সুযোগে ঘনিষ্ঠতা। অভিযোগ, একপর্যায়ে ওই নারীকে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন স্বাস্থ্যকর্মী আলমগীর হোসেন। গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। শুধু ভাড়া বাসায় নয়, হাসপাতালের দন্ত বিভাগের একটি কক্ষেও তাকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় তিন বছর ধরে এভাবে তাকে হয়রানি ও চাপে রাখা হয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এক নারী।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতেন। এ সময় বহির্বিভাগের ১২২/১৩৩ নম্বর কক্ষের সামনে অবস্থিত হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পূর্বেও হাসপাতালে এলে আলমগীর তার টিকিট কাটা, চিকিৎসক দেখানো এবং ওষুধ সংগ্রহে সহযোগিতা করতেন। এভাবেই তাদের মধ্যে পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে ওষুধের জন্য হাসপাতালে এলে আলমগীর তাকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ তার বাড়িতে রয়েছে। পরে মোটরসাইকেলে করে যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু ভাড়া বাসায় নয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষেও নিয়ে একইভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভিডিওগুলো মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তাতে কাজ হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নারীর দাবি, তার নাতি-নাতনি রয়েছে। বয়সের এই পর্যায়েও তিনি আলমগীরের চাপ ও হয়রানি থেকে মুক্তি পাননি। প্রায় তিন বছর ধরে এ ঘটনা চলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি

অভিযোগকারীর ভাষ্য, পরে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। সামনে আসা ওই ভিডিওতে আলমগীর ও ওই নারীকে হাত ধরাধরি করে একটি কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে আলমগীরকে একটি স্থানে মোবাইল ফোন রেখে দিতেও দেখা যায়। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন বলেন, আমি অন্যায় করেছি, আমাকে মাফ করে দিন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শেয়ার করুন