প্রকাশিত: August 11, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার জাতিসংঘ পার্কের সামনে সাংবাদিকদের ওপর গুলির ঘটনার জট খুলেছে। নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ সব তথ্য। খুলনা কারাগারে থাকা অবস্থায় চলন্তিকা যুব সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসাইন এ ঘটনার জন্য ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে শ্যুটার ঠকি করেন। মূল টার্গেট ছিলেন ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. মিজানুর রহমান মিলটন। অনুসন্ধান ও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলখানায় বসে মো. মিজানুর রহমান মিলটনকে হত্যার এই মূল নীল নকশা সাজানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বহুমুখী প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলায় খুলনা কারাগারে বন্দী ( সম্প্রতি জামিনে মুক্ত)‘চলন্তিকা যুব সোসাইটি’র নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসাইন এই কিলিং মিশনের মূল পরিকল্পনাকারী। সূত্র মতে, জিরোপয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত চলন্তিকা ভবনের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্দেশ্যে সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটনের সঙ্গে চুক্তি বা বায়না করেন সরোয়ার ও তাঁর চক্র। কিন্তু বায়নার টাকা বুঝে নেওয়ার পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে তা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন সরোয়ার। এ নিয়ে খুলনা জেলা যুগ্ম জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আশ্রয় নেওয়া এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মিজানুর রহমান মিলটনকে কোনোভাবেই কাবু করতে না পেরে তাঁকে একের পর এক ভুয়া ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করেন সরোয়ার গং। তাতেও যখন কাজের কাজ হয়নি এবং ফ্ল্যাট দখলের পায়তারা ব্যর্থ হতে থাকে, তখন মিলটনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, খুলনা কারাগারে বসে বন্দি থাকা অবস্থাতেই পেশাদার খুনি ও সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম গড়ে তোলেন সরোয়ার। সরাসরি সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটনকে হত্যা করতে ৩ লাখ টাকার ‘কিলার কন্ট্রাক্ট’ বা সুপারি দেওয়া হয়। চুক্তিকৃত অর্থের অগ্রিম লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর সুবিধা মতো সময়ে মিলটনের ওপর হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খুলনার জাতিসংঘ পার্কের সামনে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনী সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত ও প্রাণঘাতী গুলি চালায়। তবে উপস্থিত সহকর্মীদের সাথে না থাকায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলখানায় বসে এই কিলিং মিশনের মাস্টারমাইন্ড সরোয়ার হোসাইন এবং হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া কন্টাক্ট কিলাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে দাবি সাংবাদিক সমাজের।